শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরযুক্তরাষ্ট্র

৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন যুক্তরাষ্ট্রের, অনুপস্থিত ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হলো ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী। নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো, ওয়াশিংটনের পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে পৃথক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই হামলার এক-চতুর্থাংশ শতাব্দী পরও দিনটি মার্কিন ইতিহাসে গভীর শোক, নিরাপত্তা-চিন্তা এবং জাতীয় স্মৃতির এক অনিবার্য অধ্যায় হয়ে আছে।

TTaaraaz24bd১২ Sep ২০২৬, ০৯:৫৫ AM8 পাঠক0 মন্তব্য
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন যুক্তরাষ্ট্রের, অনুপস্থিত ট্রাম্প
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন যুক্তরাষ্ট্রের, অনুপস্থিত ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হলো ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী। নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো, ওয়াশিংটনের পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে পৃথক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই হামলার এক-চতুর্থাংশ শতাব্দী পরও দিনটি মার্কিন ইতিহাসে গভীর শোক, নিরাপত্তা-চিন্তা এবং জাতীয় স্মৃতির এক অনিবার্য অধ্যায় হয়ে আছে।

তবে এবারের স্মরণানুষ্ঠানে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুপস্থিতি। নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর মূল অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন না। সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও জো বাইডেন উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প একই সময়ে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে ৯/১১-এর স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নেন।

Inside Artcle

গ্রাউন্ড জিরোতে আবেগঘন স্মরণ

নিউইয়র্কের ন্যাশনাল সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠান শুরু হয় সকালে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ২০০১ সালের হামলা এবং ১৯৯৩ সালের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বোমা হামলায় নিহতদের নাম পাঠ করেন। প্রথম নীরবতা পালন করা হয় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে—যে সময়ে ছিনতাই করা প্রথম বিমানটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত করেছিল।

এবারের অনুষ্ঠানে মোট সাতটি নীরবতা পালনের সময় নির্ধারিত ছিল। টুইন টাওয়ারে বিমান আঘাত, দুই ভবনের পতন, পেন্টাগনে হামলা এবং ফ্লাইট ৯৩ বিধ্বস্ত হওয়ার সময়গুলো স্মরণ করার পাশাপাশি ৯/১১-পরবর্তী বিষাক্ত ধুলা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে পরবর্তী সময়ে প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এই সংযোজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ ৯/১১-এর মানবিক অভিঘাত কেবল হামলার দিনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উদ্ধারকর্মী, অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজে যুক্ত বহু মানুষ পরবর্তী বছরগুলোতে নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।

পেন্টাগনে ট্রাম্পের স্মরণ

নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেও ট্রাম্প ২৫তম বার্ষিকী পালন করেছেন পেন্টাগনে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সেখানে ২০০১ সালের হামলায় নিহত ১৮৪ জনের নাম পাঠ করা হয় এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি ৯/১১-এর স্মৃতিকে বর্তমান মার্কিন নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গেও যুক্ত করেন। পেন্টাগনের অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে সমসাময়িক ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন নীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে।

ট্রাম্পের জন্য পেন্টাগনে ৯/১১ পালন অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালেও তিনি সেখানে বার্ষিকী পালন করেছিলেন। নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর অনুষ্ঠানে তাঁর সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৪ সালে।

কেন গ্রাউন্ড জিরোতে ছিলেন না ট্রাম্প?

ট্রাম্পের নিউইয়র্কে অনুপস্থিতি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গ্রাউন্ড জিরোর বার্ষিক স্মরণানুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় তিনি পেন্টাগনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনুষ্ঠানের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এটি মূলত নিহতদের পরিবারের সদস্যদের নাম পাঠ ও নীরব শ্রদ্ধার ওপর কেন্দ্রীভূত থাকে।

তবে ট্রাম্প এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, পেন্টাগনে তিনি একজন বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং সে কারণেই সেখানে গেছেন। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার ব্যাখ্যাও দুই ভিন্ন বয়ানে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

চার সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরল উপস্থিতি

গ্রাউন্ড জিরোর অনুষ্ঠানে ক্লিনটন, বুশ, ওবামা ও বাইডেনের একসঙ্গে উপস্থিতি ছিল এবারের স্মরণানুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও প্রশাসনিক উত্তরাধিকারের প্রতিনিধিত্বকারী এই চার সাবেক প্রেসিডেন্ট একই মঞ্চের পরিসরে ৯/১১-এর নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ছিলেন।

এই উপস্থিতি মার্কিন রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে একটি ভিন্ন প্রতীকী বার্তা বহন করেছে। ৯/১১ এমন একটি ঘটনা, যা রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনিক মেয়াদের গণ্ডি অতিক্রম করে জাতীয় স্মৃতির অংশ হয়ে গেছে।

শ্যাঙ্কসভিলেও শ্রদ্ধা

পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলেও অনুষ্ঠিত হয় পৃথক স্মরণানুষ্ঠান। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৯৩ ছিনতাইয়ের পর সেখানে বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেই বিমানের যাত্রী ও ক্রুদের নাম পাঠ করা হয় এবং স্মরণ ঘণ্টা বাজানো হয়। পরবর্তী কর্মসূচিতে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজনও ছিল।

ফ্লাইট ৯৩-এর ঘটনাটি ৯/১১-এর ইতিহাসে আলাদা মাত্রা বহন করে। বিমানটি অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই বিধ্বস্ত হয়। ফলে শ্যাঙ্কসভিলের স্মৃতিসৌধও এখন জাতীয় শোক ও সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

২৫ বছর পরও অম্লান স্মৃতি

৯/১১-এর ২৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বৈদেশিক নীতিতে সেই দিনের প্রভাব স্পষ্ট। সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিমানবন্দর নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক সামরিক নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

তবে স্মৃতির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। হামলার পরবর্তী সময়ে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, অভিবাসননীতি এবং নাগরিক স্বাধীনতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ বিতর্ক তৈরি হয়। ফলে ৯/১১-এর উত্তরাধিকার শুধু নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মার্কিন সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক মনস্তত্ত্বেও গভীর ছাপ ফেলেছে।

২৫তম বার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা সেই দীর্ঘ ইতিহাসকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। নিউইয়র্কে পরিবারের সদস্যদের কণ্ঠে নিহতদের নাম উচ্চারণ, পেন্টাগনে ১৮৪ জনের স্মরণ এবং শ্যাঙ্কসভিলে ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধা—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ফিরে দেখেছে ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় দিন।

ট্রাম্প গ্রাউন্ড জিরোতে না থাকলেও তাঁর পেন্টাগন উপস্থিতি দেখিয়েছে যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ৯/১১-এর স্মরণ এখনো মার্কিন রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর গ্রাউন্ড জিরোতে চার সাবেক প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি মনে করিয়ে দিয়েছে—কিছু জাতীয় ট্র্যাজেডি রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে একটি দেশের সম্মিলিত স্মৃতিতে পরিণত হয়।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Sticky
Popup
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন যুক্তরাষ্ট্রের, অনুপস্থিত ট্রাম্প | তারাজ২৪