শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরযুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের সঙ্গে ‘গোপন যোগাযোগের’ দাবি নাকচ করলেন কিমের বোন

ত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে যোগাযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, কিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন এবং চলতি বছরের শেষ দিকে তাঁদের আবার সাক্ষাৎ হতে পারে। কিন্তু এই দাবির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আসা বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক দেখা দিয়েছে। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, তাঁর ভাই ও ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন।

TTaaraaz24bd২০ Aug ২০২৬, ০৫:৪৫ AM2 পাঠক0 মন্তব্য
ট্রাম্পের সঙ্গে ‘গোপন যোগাযোগের’ দাবি নাকচ করলেন কিমের বোন
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে যোগাযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, কিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন এবং চলতি বছরের শেষ দিকে তাঁদের আবার সাক্ষাৎ হতে পারে। কিন্তু এই দাবির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আসা বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক দেখা দিয়েছে। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, তাঁর ভাই ও ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন।এই বক্তব্য কোরীয় উপদ্বীপকে ঘিরে সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ ওয়াশিংটন যেখানে সম্ভাব্য বৈঠকের আবহ তৈরি করছে, পিয়ংইয়ং সেখানে এখনো প্রকাশ্যে সতর্ক ও সংশয়ী অবস্থান ধরে রেখেছে।

Inside Artcle

ট্রাম্পের দাবির পরই নতুন বিতর্ক

১৭ আগস্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, কিম জং উন তাঁর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন। তবে তিনি সেই যোগাযোগ কখন, কীভাবে বা কোন মাধ্যমে হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্প কিমের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন এবং বলেন, তাঁরা একে অপরকে বোঝেন।এরপরই উত্তর কোরিয়ার বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করে। কিম ইয়ো জং জানান, তাঁর জানা মতে এমন কোনো সাম্প্রতিক যোগাযোগ হয়নি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি বৈরী রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করার অবস্থানও বজায় রাখেন।তবে বিষয়টি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। কিম ইয়ো জং ট্রাম্প ও তাঁর ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের কঠোর অবস্থান এবং ব্যক্তিগত কূটনীতির সম্ভাব্য উষ্ণতার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে।

আবার কি বৈঠকের পথে ট্রাম্প-কিম?

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান এবং পরে জানান, এমন একটি সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই নেতার মধ্যে এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বৈঠক হয়েছিল। ২০১৯ সালের আলোচনার পর পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কার্যত থেমে যায়।এবারের পরিস্থিতি অবশ্য আগের তুলনায় ভিন্ন। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ইঙ্গিত রয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ফলে নতুন কোনো বৈঠক হলে তার আলোচ্যসূচি কেবল পুরোনো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকবে না।ট্রাম্পের জন্যও এই কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে সরাসরি ব্যক্তিগত কূটনীতি তাঁর পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম আলোচিত দিক ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে সেই যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে মনোযোগ সৃষ্টি করেছে।

সামরিক মহড়ার সিদ্ধান্তে নতুন বার্তা

ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়কালও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াশিংটন ও সিউল পরবর্তী সময়ে বার্ষিক সামরিক মহড়া নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। উত্তর কোরিয়া অবশ্য এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করেনি।

কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যে এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, মহড়ার পরিসর কমালেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক বৈরী অবস্থান বদলায়নি। অর্থাৎ পিয়ংইয়ংয়ের দৃষ্টিতে এটি এখনো বড় কোনো কৌশলগত পরিবর্তনের প্রমাণ নয়।এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, উত্তর কোরিয়া আপাতত কোনো প্রতীকী পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হতে চাইছে না। বরং তারা Washington-এর নীতিগত পরিবর্তনের আরও সুস্পষ্ট সংকেত প্রত্যাশা করছে।

‘গোপন যোগাযোগ’ নিয়ে প্রশ্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ

ট্রাম্পের বক্তব্য এবং কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যের পার্থক্য কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প যদি সত্যিই কিমের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়ে থাকেন, তবে সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।এটি সরাসরি দুই নেতার যোগাযোগ হতে পারে, আবার কূটনৈতিক বা মধ্যস্থতাকারী কোনো চ্যানেলের মাধ্যমেও বার্তা আদান-প্রদান হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে এমন কোনো নির্দিষ্ট পথ নিশ্চিত করার সুযোগ নেই।এই অস্পষ্টতাই জল্পনার পরিসর বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কখনো কখনো প্রকাশ্য বিবৃতির চেয়ে অনুচ্চারিত সংকেত বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে উত্তর কোরিয়ার মতো অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো বক্তব্যের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

দক্ষিণ কোরিয়াও নজর রাখছে

সম্ভাব্য ট্রাম্প-কিম বৈঠকের প্রভাব সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর পড়বে। কারণ কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক জোট একটি কেন্দ্রীয় উপাদান।সিউলের জন্য তাই ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের যেকোনো সরাসরি সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া চায়, উত্তর কোরিয়া নিয়ে যে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগে তাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া হোক।সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া এটিকে যথেষ্ট ছাড় হিসেবে বিবেচনা করছে না। দুই পক্ষের এই বিপরীত অবস্থান ভবিষ্যৎ আলোচনার পথকে সহজ করার বদলে আরও দর-কষাকষিনির্ভর করে তুলতে পারে।

সামনে কী হতে পারে

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প ও কিম সত্যিই আবার মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন কি না। ট্রাম্পের বক্তব্যে আগ্রহ স্পষ্ট। কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, উত্তর কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নতুন আলোচনার দরজা খুলে দেয়নি।কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যে একদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতিবাচক দিক স্বীকার করা হয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় অবিশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। এই দ্বৈত বার্তাই সম্ভবত বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।আগামী কয়েক মাসে তাই নজর থাকবে সম্ভাব্য বৈঠকের সময়সূচি, সামরিক মহড়া, রমাণবিক নীতি এবং দুই দেশের মধ্যকার বার্তা আদান-প্রদানের ওপর। একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তাৎক্ষণিক সমঝোতা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তীতের অভিজ্ঞতা বরং বলে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে মতপার্থক্য অত্যন্ত গভীর।তবু কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কিম ইয়ো জংয়ের কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও ট্রাম্প-কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ট্রাম্পও প্রকাশ্যে নতুন বৈঠকের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে আপাত বিরোধী বার্তার আড়ালে সম্ভাব্য যোগাযোগের একটি সরু পথ খোলা থাকতে পারে।এখন প্রশ্ন শুধু যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা নয়। বরং সেই যোগাযোগ ভবিষ্যতে বাস্তব আলোচনায় রূপ নেয় কি না, সেটিই হয়ে উঠছে কোরীয় উপদ্বীপের ভূরাজনীতির পরবর্তী বড় পরীক্ষা।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

sticky add
Popup