শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরযুক্তরাষ্ট্র

রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে জিতলে মার্কিনিদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন এক চমকপ্রদ অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টি নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশটির প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

TTaaraaz24bd১০ Sep ২০২৬, ০৪:৩০ PM1 পাঠক0 মন্তব্য
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে জিতলে মার্কিনিদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে জিতলে মার্কিনিদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন এক চমকপ্রদ অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টি নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশটির প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এই অর্থকে ‘ডিভিডেন্ড’ বা লভ্যাংশ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের ভিত্তিতেই নাগরিকদের এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটির অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, কীভাবে অর্থ বিতরণ করা হবে কিংবা কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না—এসব বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

Inside Artcle

নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক বার্তা

ট্রাম্পের ঘোষণাটি এমন সময়ে এসেছে, যখন রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। ফলে ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি কেবল অর্থনৈতিক প্রস্তাব নয়; এটি স্পষ্টতই নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও সামনে এসেছে।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, রিপাবলিকানরা জয়ী হলে তারা এই অর্থ পাবেন। তিনি প্রস্তাবটির নাম দেন ‘Trump dividend’। অর্থাৎ, নাগরিকদের কাছে সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রত্যক্ষ আর্থিক সুফল পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রতীকী ধারণা হিসেবে বিষয়টিকে উপস্থাপন করেছেন তিনি।

এ ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়ে। তাই ভোটারদের অর্থনৈতিক স্বস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্পের বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

কারা পাবেন অর্থ?

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের জন্য। অর্থাৎ শিশুদের জন্য আলাদা অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ব্যয় করতে হবে।

তবে বাস্তবায়নের কাঠামো এখনো অস্পষ্ট। নাগরিকদের সরাসরি চেক দেওয়া হবে, নাকি কর-সুবিধা, ব্যাংক ট্রান্সফার কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পৌঁছানো হবে—সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি।

এখানেই প্রস্তাবটির সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক ঘোষণা দেওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণের জন্য প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামো তৈরি করা অনেক বেশি জটিল।

সম্ভাব্য ব্যয় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ওপর ৫ হাজার ডলার করে বিতরণ করতে গেলে মোট ব্যয় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। একটি হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে অর্থ দেওয়া হলে ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নগণ্য কোনো অঙ্ক নয়। বরং এত বড় অর্থনৈতিক প্রণোদনা বাস্তবায়ন করতে গেলে বাজেট, রাজস্ব, সরকারি ঋণ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তর আলোচনা প্রয়োজন হবে।

বিশেষ করে যখন সরকারের রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত, তখন এককালীন এত বড় অর্থ বিতরণ কীভাবে অর্থায়ন করা হবে—এই প্রশ্নটি সামনে আসা স্বাভাবিক।

মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও আলোচনায়

সরাসরি নগদ অর্থ মানুষের হাতে পৌঁছালে ভোক্তা ব্যয় বাড়তে পারে। একদিকে এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে পারে, অন্যদিকে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র অতীতে অর্থনৈতিক সংকটের সময় নাগরিকদের সরাসরি অর্থ দিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে কয়েক দফায় মার্কিন পরিবারগুলোকে সরকারি অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।

তবে বর্তমান প্রস্তাবটি মহামারি-পরবর্তী জরুরি সহায়তার মতো কোনো সংকটকালীন কর্মসূচি নয়। এটি বরং নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ঘোষিত একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা। ফলে এর উদ্দেশ্য, অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর।

আইনগত ও প্রশাসনিক প্রশ্ন

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষ ধরে রাখতে পারলেই এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের ঘোষণা মাত্রেই এমন বৃহৎ সরকারি অর্থ বিতরণ কার্যকর হয়ে যায় না। কংগ্রেসের ভূমিকা, বাজেট অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এখন পর্যন্ত ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত আইনগত কাঠামো দেননি। ফলে ঘোষণা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হতে পারে, সেটি এখনও অনিশ্চিত।

‘Trump dividend’ কেন গুরুত্বপূর্ণ

রাজনীতিতে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি নতুন নয়। কিন্তু ৫ হাজার ডলারের মতো বড় অঙ্কের সরাসরি সুবিধার ঘোষণা নির্বাচনী প্রচারে বিশেষ মনোযোগ তৈরি করতে পারে। সাধারণ ভোটারদের কাছে এমন প্রতিশ্রুতি তাৎক্ষণিকভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে, বিশেষত জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি মূল্য এবং দৈনন্দিন খরচ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে।

অন্যদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে পারেন, এই অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত এর বোঝা কার ওপর পড়বে। অর্থাৎ, ঘোষণাটি যেমন জনপ্রিয়তার সম্ভাবনা তৈরি করে, তেমনি অর্থনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষাও সামনে আনে।

নির্বাচনের সমীকরণে নতুন মাত্রা

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে নিজেকেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন। তিনি সমর্থকদের এমনভাবে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তিনিও ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে উপস্থিত আছেন। এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে নিজের প্রশাসনের কার্যকারিতা ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপর গণভোটের মতো করে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন তিনি।

রিপাবলিকানদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করতে পারে এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগকে কতটা প্রশমিত করতে পারে।

সামনে বড় পরীক্ষা

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে শুধু নির্বাচনী ফলাফলের ওপর নয়; অর্থায়ন, কংগ্রেসের অনুমোদন, আইনগত বৈধতা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর মতো একাধিক বিষয়ের ওপরও।

অতএব, ঘোষণা যতটা সরল, বাস্তবায়নের পথ ততটা সরল নয়। নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তব নীতিতে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আর তখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও শুরু হতে পারে নতুন এক বিতর্ক—নাগরিকদের সরাসরি অর্থ দেওয়া কতটা কার্যকর, টেকসই এবং অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Sticky
Popup