শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরযুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন আদালত

ফেডারেল আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিত নীতি বাতিল যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। ২১ আগস্ট ২০২৬ দেওয়া রায়ে আদালত বলেছে, নীতিটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

TTaaraaz24bd২২ Aug ২০২৬, ০৮:৫৪ AM1 পাঠক0 মন্তব্য
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন আদালত
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন আদালত

ফেডারেল আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিত নীতি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। ২১ আগস্ট ২০২৬ দেওয়া রায়ে আদালত বলেছে, নীতিটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে ওই নীতি নেওয়া হয়েছিল।

Inside Artcle

ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এই রায় দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে নীতিটিকে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং কংগ্রেসের নির্ধারিত অভিবাসন কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়েছে।

জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল স্থগিতাদেশ

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা স্থগিত করে। নীতিটি ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। ওই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, বলকান, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশ ছিল। 

জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী।

নীতিটির আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকায় মোট ৭৫টি দেশের নাম ছিল। 

তবে এটি সব ধরনের মার্কিন ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল না। মূলত অভিবাসী ভিসা, অর্থাৎ স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভিসা, এই নীতির আওতায় পড়েছিল। পর্যটন, শিক্ষার্থী বা অন্যান্য অ-অভিবাসী ভিসা এর সরাসরি লক্ষ্য ছিল না

কী যুক্তি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন?

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাঁদের নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেশি। এ কারণেই তাঁদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।

এই যুক্তিকে প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রশাসনের বক্তব্য, এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সরকারি সম্পদের ওপর অভিবাসীদের সম্ভাব্য চাপ কমানো।

আদালতের আপত্তি কোথায়?

মামলার মূল প্রশ্ন ছিল, পররাষ্ট্র দপ্তর কি একটি নির্দিষ্ট জাতীয়তার সব অভিবাসী ভিসা আবেদন কার্যত একসঙ্গে স্থগিত করতে পারে?

বিচারক ভার্গাসের সিদ্ধান্তে এর উত্তর নেতিবাচক। আদালত মনে করেছে, কংগ্রেস যে আইনি কাঠামো তৈরি করেছে, সেখানে অভিবাসী ভিসার আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্দিষ্ট করা আছে।

আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে।

মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদন পরীক্ষা করে নির্ধারণ করেন, কোনো ব্যক্তি ভিসার জন্য আইনগতভাবে যোগ্য কি না। আদালতের যুক্তি ছিল, জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে আবেদন বন্ধ করে দেওয়া সেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক মূল্যায়ন কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে যায়।

জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ‘আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এ নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।’

এখানেই মামলাটির মূল তাৎপর্য। কারণ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির যোগ্যতা সাধারণত তাঁর নিজস্ব পরিস্থিতি, নথিপত্র এবং আইনি অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ার কথা।

কিন্তু জানুয়ারির নীতি পুরো একটি দেশের নাগরিকদের একই প্রশাসনিক শ্রেণিতে ফেলেছিল। আদালত এই সামগ্রিকীকরণকে কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন ব্যবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখেছে। 

কারা মামলা করেছিলেন?

এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

মামলায় ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারসহ বিভিন্ন পক্ষ যুক্ত ছিল। ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আবেদন করা মার্কিন নাগরিকেরাও মামলায় অংশ নেন। 

আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, প্রশাসনের নীতি বৈধ অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথকে জাতীয়তার ভিত্তিতে কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে পরিবার পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিবাসন আবেদনপ্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ এই ৭৫ দেশের তালিকায় থাকায় আদালতের রায়টি বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

জানুয়ারিতে নীতি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা অনেক বাংলাদেশি আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। যাঁদের পারিবারিক স্পনসরশিপ, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন আবেদন কিংবা অন্যান্য বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া চলছিল, তাঁদের ক্ষেত্রেও স্থবিরতা তৈরি হয়।

আদালতের সিদ্ধান্ত সেই পরিস্থিতির আইনি ভিত্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি। আদালত নীতি বাতিল করেছে বলেই প্রতিটি বাংলাদেশি আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পেয়ে যাবেন, এমন নয়। প্রত্যেক আবেদনকে প্রযোজ্য মার্কিন অভিবাসন আইন ও কনস্যুলার প্রক্রিয়ার আওতায় আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

আদালতের রায়ের পর কী হতে পারে?

রায়ের পর নীতিটি আর আগের অবস্থায় বহাল নেই। আদালত প্রশাসনিক পদক্ষেপটিকে বাতিল করেছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া আবার ব্যক্তিগত আবেদন মূল্যায়নের কাঠামোর দিকে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে।

তবে মার্কিন সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে এবং রায় কার্যকর স্থগিত রাখার আবেদনও করতে পারে। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের পরবর্তী আইনি গতিপথও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই কারণে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটগুলো কীভাবে রায়টি বাস্তবায়ন করে এবং সরকার পরবর্তী কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয় কি না তার ওপর।

অভিবাসন নীতিতে বড় আইনি পরীক্ষা

রায়টি শুধু ৭৫ দেশের ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বনাম কংগ্রেসের নির্ধারিত আইনি কাঠামো নিয়েও একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয়ের চাপ এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে কঠোর করার যুক্তি সামনে রেখেছে। অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব নীতির কিছু অংশ ব্যক্তিগত মূল্যায়নের পরিবর্তে জাতীয়তা বা জাতিগত পরিচয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। 

ফেডারেল আদালতের এই রায় সেই বিতর্কে বিচার বিভাগের একটি শক্তিশালী হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপসংহার

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন আদালত—এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে।

জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নীতিতে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল সরকারি সহায়তার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো। কিন্তু নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত বলেছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে এমন ঢালাও স্থগিতাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং ফেডারেল অভিবাসন আইনের কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য এর তাৎপর্য তাই সরাসরি। তবে রায় মানেই তাৎক্ষণিকভাবে সবার ভিসা অনুমোদন নয়। ব্যক্তিগত যোগ্যতা, নথিপত্র এবং অন্যান্য আইনি শর্ত যথারীতি বিবেচিত হবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অন্য জায়গায়। ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না এবং করলে উচ্চতর আদালত কী সিদ্ধান্ত দেয়। সেই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী অধ্যায়ই নির্ধারণ করবে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয়।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

sticky add
Popup