শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরফুটবল

প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ ও উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক। শুক্রবার বিকেলে শরীয়তপুরের সখিপুরের হাবিব উল্যাহ ডিগ্রি কলেজ মাঠে হাবিব উল্যাহ চোকদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

TTaaraaz24bd১২ Sep ২০২৬, ০৯:৫৫ AM6 পাঠক0 মন্তব্য
প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ ও উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ ও উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক।

শুক্রবার বিকেলে শরীয়তপুরের সখিপুরের হাবিব উল্যাহ ডিগ্রি কলেজ মাঠে হাবিব উল্যাহ চোকদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

Inside Artcle

আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শুধু রাজধানী কিংবা বড় শহরকেন্দ্রিক রাখলে সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। প্রত্যন্ত জনপদে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য তরুণের প্রতিভাকে পরিচর্যা করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত মাঠ, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো এবং ধারাবাহিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ।

তৃণমূল থেকে প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ

বাংলাদেশে ইউনিয়নের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৯৯টি। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ সংরক্ষণের পরিকল্পনাকে তাই দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর একটি বিস্তৃত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাঠের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। অনেক এলাকায় খেলার উপযোগী জমি থাকলেও তা নানা প্রয়োজনে ব্যবহৃত হওয়ায় নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

এই বাস্তবতায় প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ সংরক্ষণ তরুণদের জন্য স্থায়ী ক্রীড়া পরিসর তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। একটি মাঠ কেবল ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার জায়গা নয়; এটি হতে পারে স্থানীয় প্রতিভা বিকাশের কেন্দ্র, সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্র এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার কার্যকর মাধ্যম।

পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি হতে পারে।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়; বরং ক্রীড়াকে একটি সম্ভাবনাময় পেশাগত ক্ষেত্র হিসেবে তরুণদের সামনে প্রতিষ্ঠিত করা।

বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়াঙ্গন একটি বহুমাত্রিক শিল্পক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কোচ, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ, রেফারি, ক্রীড়া সংগঠক, ধারাভাষ্যকার, স্পোর্টস ম্যানেজার এবং ক্রীড়া-সাংবাদিকতার মতো পেশারও বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এই পরিসর আরও প্রসারিত করার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—রাজধানী বা বড় শহরের বাইরে থাকা প্রতিভাবান তরুণদের সুযোগ তৈরি করা। কারণ প্রতিভা ভৌগোলিক সীমানা মানে না। সুযোগের অভাবই অনেক সময় সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়ের পথ থামিয়ে দেয়।

দর্শকের আগ্রহই বড় শক্তি

হাবিব উল্যাহ চোকদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে বিপুল দর্শকের উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, দেশের ফুটবল ও খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো অনেক বেশি

এই আগ্রহকে বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নের অন্যতম সামাজিক পুঁজি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মাঠে দর্শকের উপস্থিতি স্থানীয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। একই সঙ্গে একটি প্রতিযোগিতাকে ঘিরে তৈরি হয় সামাজিক সংযোগ, উৎসবমুখরতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ।

বাংলাদেশে ফুটবলের ঐতিহাসিক জনপ্রিয়তা নতুন করে উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রেও স্থানীয় টুর্নামেন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা হলে খেলোয়াড়দের ম্যাচ-অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং প্রতিভা শনাক্ত করার সুযোগও বিস্তৃত হবে।

যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার কৌশল

খেলাধুলার আরেকটি বড় সামাজিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব

একজন তরুণ যখন নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন তার দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও দলগত দায়িত্ববোধের চর্চা তৈরি হয়। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জয়-পরাজয় গ্রহণের মানসিকতাও গড়ে ওঠে। এসব গুণ ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক পরিসরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ক্রীড়া কার্যক্রমকে একা বিচ্ছিন্ন কোনো সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খেলাধুলার সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম যুক্ত হলে এর প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সমন্বিত যুব উন্নয়ন

আমিনুল হক তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খেলাধুলার পাশাপাশি তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে

খেলার মাঠ যেমন শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়, তেমনি সংস্কৃতিচর্চা তৈরি করতে পারে সৃজনশীলতা ও মানবিক সংবেদনশীলতা। সংগীত, নাটক, সাহিত্য, বিতর্ক কিংবা স্থানীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে তরুণদের যুক্ত করা গেলে তাদের বহুমাত্রিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

এই সমন্বিত পদ্ধতি একটি সুস্থ যুবসমাজ গঠনের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। নেতৃত্বের গুণ, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো মূল্যবোধও এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বিকশিত হতে পারে।

ক্রীড়া অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ এবং প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামোয় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে মাঠের যথাযথ সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষক নিয়োগ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর।

অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলোকে সচল রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি মাঠ নির্মাণের পর সেটি যদি নিয়মিত খেলাধুলায় ব্যবহৃত না হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন। তাই স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

আমিনুল হকের বক্তব্যে যে বৃহত্তর লক্ষ্যটি প্রতিফলিত হয়েছে, তা হলো—ক্রীড়াকে কেবল বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে না দেখে যুব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং জাতীয় গৌরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ ও সাঈদ আহমেদ আসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিপুল দর্শকের অংশগ্রহণে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপ্তি তাই কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরিসমাপ্তি নয়; বরং স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রতি মানুষের অব্যাহত আগ্রহেরও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Sticky
Popup
প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ ও উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী | তারাজ২৪