দেশ-বিদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর নামে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানা, শেয়ার, বিলাসবহুল গাড়ি এবং বিদেশে থাকা বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।
দুর্নীতি, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ ও হিসাব স্থগিতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান এবং চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: বিএফআইইউ
গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং দেশের ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশ-বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশে ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ করতে তিনি রাজি হননি।
বিএফআইইউ প্রধান বলেন, "দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করছি, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি জানাতে পারব।"
যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারত চলে যান। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনার পরিবার এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, কর ও শুল্ক ফাঁকি, মুদ্রা পাচার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়।
তদন্তাধীন শিল্পগোষ্ঠীগুলো হলো—
- এস আলম গ্রুপ
- বেক্সিমকো গ্রুপ
- নাবিল গ্রুপ
- সামিট গ্রুপ
- ওরিয়ন গ্রুপ
- জেমকন গ্রুপ
- নাসা গ্রুপ
- বসুন্ধরা গ্রুপ
- সিকদার গ্রুপ
- আরামিট গ্রুপ
এ তদন্তে কাজ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুরো কার্যক্রমে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে বিএফআইইউ।
রাজনৈতিক পরিচয় নয়, গুরুত্ব পাবে সন্দেহজনক লেনদেন
অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক জানতে চান, সরকার পরিবর্তনের পরই কেন সাবেক ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের তদন্ত হবে কি না।
জবাবে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, "আমরা ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করি না। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলেই তদন্ত ও প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। কেউ যদি আইন লঙ্ঘন করে থাকেন, তিনি যে-ই হোন না কেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের কারও বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এই সংস্করণে পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া হয়েছে, ভাষা আরও সাবলীল করা হয়েছে এবং সংবাদধর্মী কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে।