শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরচীন

কিরগিজস্তানে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের সি

মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বসছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) ২০২৬ সালের শীর্ষ সম্মেলন। গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। ২০২৬ সালে SCO প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি হওয়ায় এবারের সম্মেলনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

TTaaraaz24bd৩১ Aug ২০২৬, ০৬:৩০ AM3 পাঠক0 মন্তব্য
কিরগিজস্তানে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের সি
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

কিরগিজস্তানে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের সি

মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বসছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) ২০২৬ সালের শীর্ষ সম্মেলন। গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। ২০২৬ সালে SCO প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি হওয়ায় এবারের সম্মেলনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ৩০ আগস্ট বিশকেকে পৌঁছেছেন। তাঁর সফরের অংশ হিসেবে তিনি SCO শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কিরগিজস্তানে রাষ্ট্রীয় সফর করছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজস্তান সফর করে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

এই সম্মেলনে শুধু রাশিয়া ও চীন নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য দেশের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। ফলে বিশকেক কয়েক দিনের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

Inside Artcle

পুতিন ও সি চিনপিংয়ের বৈঠকে নজর

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ পুতিন ও সি চিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। দুই নেতার মধ্যে ৩১ আগস্ট বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বিশ্ব রাজনীতিতে মেরুকরণের মধ্যেই মস্কো ও বেইজিং নিজেদের কৌশলগত সম্পর্ককে জোরদার করেছে।

তবে এই সম্পর্ককে সরল সমীকরণে দেখা যায় না। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কূটনৈতিক সহযোগিতা থাকলেও নিজেদের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে উভয় দেশই পৃথক হিসাব করে। এই বাস্তবতা এবারের বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

SCO-এর ২৫ বছর

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্ম পরবর্তী সময়ে অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে।

বর্তমানে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছে চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও বেলারুশ। বিভিন্ন সদস্য দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ এক নয়। তবুও SCO তাদের একই কূটনৈতিক পরিসরে আলোচনার সুযোগ করে দেয়।

এবারের সম্মেলন তাই শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন নয়। সংগঠনটি আগামী দিনে কোন পথে এগোবে, তারও একটি রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরি হতে পারে।

নিরাপত্তা থেকে অর্থনীতি

বিশকেক সম্মেলনের আলোচনায় নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এর পরিধি আরও বিস্তৃত। SCO-এর সদস্যরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, মাদক পাচার, তথ্যনিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার মতো বিষয়ে আলোচনা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরেশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বাণিজ্যপথ, জ্বালানি সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থ রয়েছে।

চীন বিশেষভাবে আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোতে সক্রিয়। রাশিয়া আবার জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে বড় সরবরাহকারী। ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জ্বালানি সহযোগিতা।

জ্বালানি সম্পর্কের দিকে নজর

পুতিন ও সি চিনপিংয়ের বৈঠকে রাশিয়া থেকে চীনে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্য সম্প্রসারণও আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ নামে পরিচিত প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ার গ্যাস চীনের বাজারে আরও বড় পরিসরে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চীন দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহের একটি অতিরিক্ত উৎস পেতে পারে।

তবে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের মতো এই ক্ষেত্রেও মূল্য, বিনিয়োগ, পরিবহন ও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও বাস্তবায়নের পথে অর্থনৈতিক সমীকরণ বড় ভূমিকা রাখবে।

ভারতের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ

SCO সম্মেলনে ভারতের উপস্থিতি কূটনৈতিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভারত রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রাখে, আবার চীনের সঙ্গেও তার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে।

ফলে বিশকেকে ভারতের অবস্থান আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। নয়াদিল্লি SCO-কে পশ্চিমা জোটের বিকল্প হিসেবে দেখার বদলে নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করে।

এ কারণেই সংগঠনের ভেতরের সম্পর্ককে একক কোনো মেরুকরণের কাঠামোয় ব্যাখ্যা করা কঠিন।

ইরানের ভূমিকা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের অংশগ্রহণও এবারের সম্মেলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে।

ইরানের জন্য SCO একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। নিষেধাজ্ঞার চাপ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোতে তেহরান এই ধরনের বহুপাক্ষিক কাঠামোকে কাজে লাগাতে আগ্রহী।

পুতিন, সি ও পেজেশকিয়ানের একই মঞ্চে উপস্থিতি তাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজর কেড়েছে।

কিরগিজস্তানের জন্য বড় আয়োজন

সম্মেলনের আয়োজক দেশ কিরগিজস্তানের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত। প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ সি চিনপিংকে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

চীন ও কিরগিজস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। বিশকেকের এই আয়োজন সেই সম্পর্ককে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে।

পশ্চিমা বিশ্বের দিকে নজর

SCO সম্মেলনকে প্রায়ই পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে একটি বিকল্প কূটনৈতিক পরিসর হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে স্বার্থের পার্থক্যও যথেষ্ট। তাই এটিকে একক সামরিক বা রাজনৈতিক জোট হিসেবে বিবেচনা করা সঠিক নয়।

বরং SCO এমন একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চ, যেখানে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা দেশগুলোর নেতারাও একই টেবিলে বসতে পারেন। এই বৈশিষ্ট্যই সংগঠনটির অন্যতম শক্তি।

বিশ্ব রাজনীতিতে যখন প্রতিযোগিতা, বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব এবং আঞ্চলিক সংঘাত বাড়ছে, তখন এই ধরনের সংলাপের প্ল্যাটফর্মের গুরুত্বও বাড়ছে।

সামনে কী

বিশকেক সম্মেলন থেকে একাধিক ঘোষণা ও নথি প্রকাশের প্রত্যাশা রয়েছে। SCO-এর ভবিষ্যৎ কাঠামো, নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান এসব নথিতে প্রতিফলিত হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে পুতিন ও সি চিনপিংয়ের বৈঠনের দিকে। দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোচ্ছে, জ্বালানি সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি হচ্ছে কি না এবং আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে তারা কী ধরনের অবস্থান তুলে ধরেন, সেদিকেই পর্যবেক্ষকদের মনোযোগ থাকবে।

সব মিলিয়ে, কিরগিজস্তানে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের সি—এই ঘটনা কেবল একটি কূটনৈতিক সফরের খবর নয়। এটি ইউরেশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূরাজনীতি, SCO-এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং রাশিয়া-চীন সম্পর্কের গতিপথ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Sticky
Popup
কিরগিজস্তানে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের সি | তারাজ২৪