শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরএশিয়া

ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুনে ৫ জনের মৃত্যু

ফিলিপাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় প্রদেশ পালাওয়ানের কাছে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পরও বহু যাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৮৭ জন পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

TTaaraaz24bd১০ Sep ২০২৬, ০৬:১৯ AM1 পাঠক0 মন্তব্য
ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুনে ৫ জনের মৃত্যু
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুনে ৫ জনের মৃত্যু

ফিলিপাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় প্রদেশ পালাওয়ানের কাছে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পরও বহু যাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৮৭ জন পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

Palawan-এর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র করোনের কাছাকাছি সমুদ্রে বুধবার সন্ধ্যায় M/V June Aster ফেরিটিতে আগুন লাগে। ফেরিটি ম্যানিলার Baseco এলাকা থেকে করোনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির যাত্রী তালিকায় ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন—মোট ১৩৪ জন।

Inside Artcle

সমুদ্রে আগুন, শুরু উদ্ধার অভিযান

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ফেরিটি তখন পালাওয়ানের করোন এলাকার কাছে উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং ফেরিটির বিভিন্ন অংশ আগুনে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। কোস্ট গার্ড প্রকাশিত ভিডিওতেও জাহাজটিকে আগুনে জ্বলতে দেখা গেছে।

দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, দমকল বাহিনী, সামরিক সদস্য, বেসরকারি নৌযান এবং স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হন। ছোট নৌযানের সাহায্যেও যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৪২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়—তাদের মধ্যে ৩৮ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য।

কিন্তু সমুদ্রের প্রতিকূলতা উদ্ধার কার্যক্রমকে কঠিন করে তোলে। প্রবল স্রোত ও বাতাসের কারণে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ফেরিটি তার প্রাথমিক অবস্থান থেকে সরে যেতে থাকে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে অনুসন্ধান এলাকা আরও বিস্তৃত করতে হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, কোস্ট গার্ড সম্ভাব্য জীবিতদের অবস্থান শনাক্ত করতে বিভিন্ন অনুসন্ধান সরঞ্জাম ও drift-modelling পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

নিখোঁজদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দুর্ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো বিপুলসংখ্যক মানুষের এখনো হিসাব না মেলা। কোস্ট গার্ডের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পাঁচজন নিহত এবং ৪২ জন উদ্ধার হওয়ার পর ৮৭ জনকে এখনো নিখোঁজ হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি চলমান অভিযানের মধ্যবর্তী হিসাব এবং পরবর্তী সময়ে সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে সব তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াবায়াব জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অনেকের সঙ্গে তখনও বিস্তারিতভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রী তালিকা, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এবং নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করতে সময় লাগছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের স্রোত মানুষ বা ভাসমান বস্তু দ্রুত দূরে সরিয়ে নিতে পারে। তাই অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে একই সঙ্গে বিস্তৃত সমুদ্রাঞ্চল পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকাতেও তল্লাশি চালাতে হচ্ছে।

আগুনের কারণ এখনো অজানা

ফেরিটিতে আগুন কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন জাহাজের কোন অংশ থেকে শুরু হয়েছিল, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে কার্গো অংশের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হলেও কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেনি।

দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হতে পারে। একই সঙ্গে যাত্রী ও ক্রুদের তালিকা এবং জাহাজের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নথিও পর্যালোচনা করা হবে।

দ্বীপদেশের নৌপরিবহনে নিরাপত্তার প্রশ্ন

ফিলিপাইন একটি দ্বীপপুঞ্জভিত্তিক রাষ্ট্র। দেশটির হাজার হাজার দ্বীপের মধ্যে মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে ফেরি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোর সঙ্গে বড় শহর ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সমুদ্রপথনির্ভর। ফলে একটি ফেরি দুর্ঘটনা শুধু একটি জাহাজের বিপর্যয় নয়; এর অভিঘাত বিস্তৃত জনপরিবহন ব্যবস্থার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বর্তমান দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এসব কোনোটি দায়ী ছিল কি না, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তা বলা যাবে না।

করোনের পর্যটন অঞ্চলে দুর্ঘটনার অভিঘাত

ফেরিটির গন্তব্য ছিল করোন, পালাওয়ানের অন্যতম পরিচিত পর্যটন এলাকা। স্বচ্ছ জল, চুনাপাথরের পাহাড় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে এখানে পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ফলে এই নৌপথে যাত্রী ও পর্যটকের চলাচল গুরুত্বপূর্ণ।

এই দুর্ঘটনা স্থানীয় পর্যটন ও নৌপরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে যাত্রী পরিবহনকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা যাচাই কতটা কার্যকর, জরুরি সরঞ্জাম যথেষ্ট আছে কি না এবং অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা কতটা—এসব প্রশ্ন সামনে আসবে।

তদন্তের দিকে তাকিয়ে স্বজনেরা

এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধার অভিযান। পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। সরকারি সংস্থাগুলো উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ উদ্ঘাটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একটি সামুদ্রিক দুর্ঘটনার প্রকৃত শিক্ষা কেবল মৃত্যুর সংখ্যা গণনায় সীমাবদ্ধ থাকে না। কোথায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে, কোন সতর্কতা উপেক্ষিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যয় কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়—এসব প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফিলিপাইনের এই ফেরি দুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। তাই নিখোঁজদের ভাগ্য, চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ—সবকিছু নিয়েই সামনে আরও তথ্য আসার অপেক্ষা রয়েছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Sticky
Popup