কুয়ালালামপুর, ২১ জুন ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি দেশের অগ্রগতিতে কীভাবে অবদান রাখা যায়, সে বিষয়েও সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
কুয়ালালামপুর, ২১ জুন ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি দেশের অগ্রগতিতে কীভাবে অবদান রাখা যায়, সে বিষয়েও সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী Kuala Lumpur-এর শাংরি-লা হোটেলে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন আমরা সবাই চিন্তা করি দেশের জন্য কী করতে পারি, যাতে আমরা সবাই একসঙ্গে সমৃদ্ধ হতে পারি। নিজেদের প্রত্যাশা ও দাবির পাশাপাশি দেশের জন্য আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কেও ভাবতে হবে।”
দেশ পুনর্গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অপশাসন, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের কারণে দেশের বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশের মানুষ ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো সবাই মিলে দেশকে পুনর্গঠন করা এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া।”
তার মতে, জাতীয় উন্নয়নের এই যাত্রায় দেশের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশির অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি, কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের সামনে আমার চিন্তা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। যদি আপনারা মনে করেন এভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, তাহলে এসব উদ্যোগকে সমর্থন করুন এবং আমাদের জন্য দোয়া করুন, যাতে আমরা সফলভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।”

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ
বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামনে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সামনে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রয়েছে। তবে সেই ভবিষ্যৎ অর্জন করতে হলে আমাদের সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এবং ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।”
কুয়ালালামপুরের পরিচ্ছন্নতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান
মালয়েশিয়ার রাজধানীর পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে কর্মরত বহু বাংলাদেশি শ্রমিক নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
তিনি বলেন, “এখানে আসার পথে আমি লক্ষ্য করেছি কুয়ালালামপুরের রাস্তাগুলো কতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজে আমাদের দেশের মানুষও অবদান রাখছেন। যদি আমরা বিদেশে এ ধরনের কাজ দক্ষতার সঙ্গে করতে পারি, তাহলে নিজেদের দেশেও তা করতে পারব।”
অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন কঠিন সময়ের কথাও স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে তার পরিবারকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেক ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো আজও মানুষের স্মৃতিতে রয়েছে। আমার মা Khaleda Zia গুরুতর অসুস্থ থাকাকালে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন।”
প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের ঘটনাগুলোর প্রতিশোধ নেওয়ার রাজনীতি বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা প্রতিহিংসা থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তার সুফল কেউ পায় না। তাই আমাদের প্রতিশোধ ও শত্রুতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সহযোগিতা, সহনশীলতা ও উন্নয়নের রাজনীতিতে মনোযোগ দিতে হবে।”
প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim-এর সঙ্গে তার একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ওই বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং দেশে ফিরতে না পারা প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরব। তবে তাদের নিজস্ব আইন ও বিধিবিধানের মধ্যেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। সেই কাঠামোর মধ্যেই আমরা আমাদের প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।”
তার এই বক্তব্যে সভায় উপস্থিত প্রবাসীরা করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
অনুষ্ঠানের শুরুতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার Manjurul Karim Khan Chowdhury স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে বিএনপির মালয়েশিয়া শাখার সভাপতি Engineer Badlur Rahman ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী Dr Zubaida Rahman উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়া সফরের পরবর্তী কর্মসূচি
দুই দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে অংশ নেবেন। পরে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও ইতিবাচক অগ্রগতি আসতে পারে।