শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরখেলাধুলা

মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ড ও কেইনকে কীভাবে থামাবেন? সাবেক ডিফেন্ডারের বিশ্লেষণ

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইনকে থামানোর কৌশল ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক ওয়েলস ডিফেন্ডার অ্যাশলি উইলিয়ামস।

TTaaraaz24২২ Jun ২০২৬, ০১:৫৪ PM1 পাঠক0 মন্তব্য
মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ড ও কেইনকে কীভাবে থামাবেন? সাবেক ডিফেন্ডারের বিশ্লেষণ
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ড ও কেইনকে কীভাবে থামাবেন? সাবেক ডিফেন্ডারের বিশ্লেষণে বিশ্বকাপের সেরা চার স্ট্রাইকার

ঢাকা, ২২ জুন ২০২৬: বিশ্বকাপের মঞ্চে তারকা ফুটবলারদের উজ্জ্বল উপস্থিতি সবসময়ই টুর্নামেন্টকে অন্য মাত্রা দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই ফুটবল বিশ্বের চার সেরা স্ট্রাইকার—লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইন—প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পের জোড়া গোল, নরওয়ের হয়ে হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির হ্যাটট্রিক এবং ইংল্যান্ডের হয়ে কেইনের জোড়া গোল বিশ্বকাপের শুরুতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে এই চার তারকাকে।

Inside Artcle

কিন্তু প্রশ্ন হলো—বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর এই চার ফরোয়ার্ডকে কীভাবে থামানো সম্ভব?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন সাবেক ওয়েলস ও এভারটন ডিফেন্ডার অ্যাশলি উইলিয়ামস, যিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাখ্যা করেছেন চারজনের বিপক্ষে রক্ষণভাগের কৌশল কেমন হওয়া উচিত।

মেসি: তাকে এমন জায়গায় ঠেলে দিন, যেখানে তিনি স্বস্তি বোধ করেন

বর্তমানে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া লিওনেল মেসি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের অস্ত্র। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন বয়স তার প্রতিভাকে ছুঁতে পারেনি।

অ্যাশলি উইলিয়ামসের মতে, মেসিকে থামানো কোনো একক ডিফেন্ডারের কাজ নয়।

তিনি বলেন, "মেসিকে থামাতে পুরো দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একজন ডিফেন্ডার হিসেবে আপনি সবকিছু ঠিকঠাক করলেও শেষ পর্যন্ত কিছুটা ভাগ্যের প্রয়োজন হয়।"

উইলিয়ামসের মতে, মেসির বিপক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা।

"শরীরের অবস্থান, দূরত্ব ও অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে তাকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে যেখানে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ তাকে পুরোপুরি থামানো প্রায় অসম্ভব।"

তিনি আরও বলেন, "মেসির নিচু ভারকেন্দ্র, অসাধারণ ভারসাম্য এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে। আপনি তাকে যে দিকেই ঠেলে দিন না কেন, সে সেখান থেকেই সুযোগ তৈরি করতে পারে।"

এমবাপ্পে: এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ হারানো যাবে না

ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে গতি, শক্তি ও বিস্ফোরণধর্মী আক্রমণের জন্য বিখ্যাত।

উইলিয়ামস নিজেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপ্পের বিপক্ষে খেলেছেন। ২০১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সী এমবাপ্পেকে সামলানোর অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে আছে।

তিনি বলেন, "এমবাপ্পে মেসির চেয়ে অনেক বেশি সরাসরি খেলেন। তার ড্রিবলিংয়ের গতি এবং দিক পরিবর্তনের তীব্রতা অসাধারণ।"

তার মতে, এমবাপ্পের বিপক্ষে খেলতে হলে পুরো সময় মনোযোগ ধরে রাখতে হয়।

"আপনি যদি এক সেকেন্ডের জন্যও মনোযোগ হারান, তাহলে সে সেই সুযোগ কাজে লাগাবে।"

উইলিয়ামস আরও মনে করেন, শুধু এমবাপ্পেকে আটকানোই যথেষ্ট নয়।

"ফ্রান্সের দলে ওসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও আরও অনেক সৃজনশীল ফুটবলার আছে। আপনি যদি পুরো মনোযোগ এমবাপ্পের দিকে দেন, তাহলে অন্যরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে।"

হলান্ড: তার কাছে বল পৌঁছানোই বন্ধ করতে হবে

আর্লিং হলান্ডের খেলাধুলার ধরন মেসি বা এমবাপ্পের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

নরওয়ের এই গোলমেশিন নিজের গতিতে ডিফেন্ডারদের হারিয়ে যান না, বরং ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে সুযোগ কাজে লাগান।

উইলিয়ামস বলেন, "হলান্ড বল ছাড়া সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। সে আপনার পেছনের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করতে ভালোবাসে।"

তার মতে, হলান্ডকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাকে বল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া।

"প্রথম কাজ হবে তার দিকে যাওয়া পাসগুলো বন্ধ করা। কারণ সে নিজে চারজনকে কাটিয়ে গোল করার চেয়ে সতীর্থদের দেওয়া সুযোগ থেকে বেশি গোল করে।"

তিনি আরও বলেন, "যদি হলান্ড বক্সের ভেতরে সুযোগ পায়, তাহলে সেটা প্রায় নিশ্চিত গোল।"

ডিফেন্ডারদের জন্য তার পরামর্শ, "বক্সের আশপাশে তাকে খুব কাছ থেকে মার্ক করতে হবে এবং যতটা সম্ভব ডান পায়ে খেলতে বাধ্য করতে হবে।"

কেইন: তাকে শট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ স্ট্রাইকারদের একজন হিসেবে বিবেচিত।

তার গোল করার দক্ষতার পাশাপাশি পাসিং, খেলা তৈরি করা এবং মিডফিল্ডে নেমে এসে আক্রমণ সাজানোর ক্ষমতা তাকে আলাদা করেছে।

অ্যাশলি উইলিয়ামস বলেন, "আমার মতে এই চারজনের মধ্যে কেইনের শুটিং সবচেয়ে নিখুঁত।"

তিনি মনে করেন, বর্তমান কেইন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত।

"একসময় সে বেশি দৌড়াত এবং ডিফেন্সের পেছনে জায়গা খুঁজত। এখন সে মাঝমাঠে নেমে আসে, খেলা তৈরি করে এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে।"

উইলিয়ামসের মতে, কেইনকে অনুসরণ করে ডিফেন্ডারদের মাঝমাঠ পর্যন্ত উঠে যাওয়া উচিত নয়।

"সে যদি মাঝমাঠে নামে, তাহলে মিডফিল্ডারদের দায়িত্ব হবে তাকে সামলানো। ডিফেন্ডারদের মূল কাজ হবে পেছনের জায়গা রক্ষা করা।"

তিনি সতর্ক করে বলেন, "কেইন নিজে যেমন বিপজ্জনক, তেমনি তার তৈরি করা ফাঁকা জায়গায় জুড বেলিংহ্যাম, ননি মাদুয়েকে বা অ্যান্থনি গর্ডনের মতো খেলোয়াড়রা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।"

বিশ্বকাপ কি তারকা স্ট্রাইকারদের টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে?

২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুটা দেখে অনেকেই মনে করছেন, এবারের আসর হয়তো তারকা স্ট্রাইকারদের দখলেই থাকবে।

মেসির অভিজ্ঞতা, এমবাপ্পের গতি, হলান্ডের গোল করার দক্ষতা এবং কেইনের সর্বাঙ্গীণ ফুটবল প্রতিভা—সব মিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচে তাদের উপস্থিতি পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে।

ডিফেন্ডারদের জন্য কাজটা যত কঠিনই হোক, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য। কারণ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে সেরা খেলোয়াড়দের সেরাটা দেখার অপেক্ষাতেই থাকে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Taaraaz Construction – Quality, Trust & Excellence in Every Project!
sticky add
popup