রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ঢাকার একটি আদালত ১ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে।
ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলা: ১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা ও আরও ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ঢাকার একটি আদালত ১ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতা থেকে উদ্ভূত এই মামলায় সিদ্ধান্তটি আরেকটি পদ্ধতিগত পদক্ষেপ।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতা থেকে উদ্ভূত এই মামলায় সিদ্ধান্তটি আরেকটি পদ্ধতিগত পদক্ষেপ। মূলত আজ ঢাকা বিশেষ জজ আদালত ৪-এ শুনানিটি নির্ধারিত ছিল, কিন্তু কারাগার থেকে বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির না করায় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
বিচারক রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আদালতের এই সর্বশেষ আদেশের ফলে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকছে এবং কর্তৃপক্ষ হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে। অভিযুক্তকে হাজির না করায় শুনানি স্থগিত
মামলাটি ঢাকা বিশেষ জজ আদালত ৪-এর বিচারক রবিউল আলমের সামনে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল। ফৌজদারি কার্যধারায় অভিযোগ গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, কারণ এর মাধ্যমে আদালত নির্ধারণ করে যে, বিদ্যমান অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারের জন্য যথেষ্ট কি না।
তবে, বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়নি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত সময় চায়।
আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
ফলে অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি ১ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এই স্থগিতাদেশটি পদ্ধতিগত। এটি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির দোষ বা নির্দোষিতা নির্ধারণ করে না। আদালত যদি শেষ পর্যন্ত অভিযোগ গঠন করে এবং মামলাটি বিচারের জন্য অগ্রসর হয়, তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই প্রশ্নগুলোর সমাধান করা হবে।
ট্রাক চালক মো. হোসেনের মৃত্যু
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় গুলিতে নিহত ট্রাক চালক মো. হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই মামলাটির সূত্রপাত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় হোসেন গুলিতে নিহত হন।
হোসেন ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাড়ি ফেরার পথে সহিংসতার শিকার হন।
পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে ভিত্তি করে তার মা রীনা বেগম একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।
হোসেনের মায়ের দায়ের করা হত্যা মামলা
২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট হোসেনের মা রীনা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পর মামলাটি দায়ের করা হয় এবং এর মাধ্যমে অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে মামলাটির পুলিশি তদন্ত শুরু হয়, যেখানে তদন্তকারীরা গুলি চালানোর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং এতে একাধিক ব্যক্তির কথিত সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখেন।
রাষ্ট্রপক্ষের মামলায় এখন ৩৪ জন অভিযুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে পূর্ববর্তী সরকারের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তৎকালীন শাসক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত।
অভিযুক্তদের তালিকার ব্যাপকতা মামলাটিকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এটি ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে একটি ব্যক্তিগত মৃত্যুকে সহিংসতার জন্য কথিত দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত একটি বৃহত্তর আইনি তদন্তের আওতায় নিয়ে আসে। ২০২৫ সালে অভিযোগপত্র দাখিল
তদন্তের পর, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক আকরামউজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও আরও ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে পুলিশি তদন্তের সমাপ্তি ঘটে এবং মামলাটি বিচারিক পর্যালোচনার পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করে।
আদালতকে এখন অভিযোগগুলো বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা তা নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ গঠন করা হলে, মামলাটি বিচারের দিকে অগ্রসর হবে, যেখানে আইন অনুযায়ী প্রমাণ ও সাক্ষ্য পরীক্ষা করা হবে।
সুতরাং, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এই প্রক্রিয়াটি একাধিক পর্যায়ে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম রয়েছে
অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক সরকারের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলায় সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের নাম রয়েছে।
এই তালিকায় তৎকালীন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বাংলাদেশ ছাত্র লীগের সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এই মামলায় আসিফ আহমেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বাজলুর রহমান এবং নূর মোহাম্মদ সেন্টুর নামও রয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযুক্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান





