শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরক্রিকেট

টেস্ট কখনো হয়নি, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যুতে আর কী খেলা হয়েছে

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। ভেন্যুটির জন্য ম্যাচটি ঐতিহাসিক। কারণ এর আগে এই মাঠে পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেট কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের মানচিত্রে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি ভেন্যু।

TTaaraaz24bd১৯ Aug ২০২৬, ০৬:৩৩ AM0 পাঠক0 মন্তব্য
টেস্ট কখনো হয়নি, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যুতে আর কী খেলা হয়েছে
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। ভেন্যুটির জন্য ম্যাচটি ঐতিহাসিক। কারণ এর আগে এই মাঠে পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেট কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের মানচিত্রে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি ভেন্যু।

Inside Artcle

তবে টেস্ট না হলেও গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার ক্রিকেটীয় ইতিহাস মোটেই অনুজ্জ্বল নয়। বরং কয়েক দশক ধরে মাঠটি ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ক্রিকেটের সাক্ষী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কিছু স্মরণীয় ও অদ্ভুত ঘটনাও জড়িয়ে আছে এই মাঠের সঙ্গে।

ম্যাকাইয়ে প্রথম টেস্টের অপেক্ষা

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২২ থেকে ২৬ আগস্ট। ম্যাচটি শুধু সিরিজের ফল নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভেন্যুটির ইতিহাসেও এটি একটি মাইলফলক।

ম্যাকাই এত দিন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মানচিত্রে মূলত ঘরোয়া ক্রিকেটের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন টেস্ট ক্রিকেটের অভিষেক সেই পরিচয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ভেন্যুটির এই রূপান্তর একদিনে হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, মাঠের মান, দর্শকসুবিধা ও সম্প্রচারের সক্ষমতা ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। সেই দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এবার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সংস্করণের ক্রিকেট আসছে ম্যাকাইয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তির দ্বিশতক

ম্যাকাইয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে ১৯৬৮ সালের একটি ম্যাচ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সে সময় এখানে কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি একাদশের বিপক্ষে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল খেলেছিল।

ম্যাচটির সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান রোহান কানহাইয়ের ২০৬ রানের ইনিংস। সেই সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আধিপত্য ছিল প্রবল। কানহাইও ছিলেন সেই সোনালি প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার।

অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক অভিষেকের বহু আগেই ম্যাকাইয়ের মাঠে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটের ছাপ পড়ে গিয়েছিল।

ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটের ম্যাচ

১৯৭৮ সালেও মাঠটি ক্রিকেট ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ হয়। এখানে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটের একটি ম্যাচ।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট ছিল একটি যুগান্তকারী অধ্যায়। কেরি প্যাকার প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা ক্রিকেটের বাণিজ্যিক কাঠামো, সম্প্রচার এবং খেলোয়াড়দের পেশাগত অবস্থান বদলে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

ম্যাকাইয়ের মাঠে সেই প্রতিযোগিতার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়া ভেন্যুটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ

১৯৮৮ সালে কুইন্সল্যান্ড ও সফরকারী পাকিস্তান দলের মধ্যে দুটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অনেক আগে থেকেই ম্যাকাই উচ্চমানের ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা প্রদর্শন করছিল।

সেই সময় পাকিস্তান দল ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট দল। ফলে পাকিস্তানের মতো আন্তর্জাতিক দলের সফর স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় আকর্ষণ ছিল।

১৯৯২ বিশ্বকাপের অদ্ভুত অধ্যায়

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার সবচেয়ে অদ্ভুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্মৃতিগুলোর একটি ১৯৯২ বিশ্বকাপকে ঘিরে।

তখন মাঠটির নাম ছিল রে মিচেল ওভাল। বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কার। কিন্তু ম্যাচটি কার্যত শুরু হওয়ার পরপরই শেষ হয়ে যায়।

মাত্র দুই বল খেলার পর বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।

এই অতি সংক্ষিপ্ত ম্যাচটি ক্রিকেট ইতিহাসে এক অভিনব রেকর্ড রেখে যায়। শ্রীলঙ্কার চম্পাকা রামানায়েকে ওই মাঠে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করা প্রথম ও একমাত্র বোলার হিসেবে জায়গা করে নেন। অন্যদিকে ভারতের কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত করেন মাঠটির পুরুষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একমাত্র রান।

তিন দশকেরও বেশি সময় পর সেই মাঠেই এখন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনের টেস্ট। ইতিহাসের এমন বৈপরীত্য ক্রিকেটের পরিসংখ্যানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা

টেস্ট ক্রিকেট না হলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৯৫ সালে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে সফরকারী শ্রীলঙ্কা দলের একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

সেই ম্যাচে কুইন্সল্যান্ড বড় জয় পায়। দলের হয়ে মাইকেল কাসপ্রোভিচ দুর্দান্ত বোলিং করে ১২ উইকেট শিকার করেন।

এই ম্যাচটি প্রমাণ করে, পাঁচ দিনের ক্রিকেটের জন্য মাঠটি সম্পূর্ণ অপরিচিত নয়। তবে আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচের চাপ, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য যে আলাদা, সেটিই এবার নতুন করে সামনে আসবে।

শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ

২০১৫ সালে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা প্রথমবার শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ আয়োজন করে। কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে নিউ সাউথ ওয়েলস ৩ উইকেটে জয় পায়।

ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কুইন্সল্যান্ডের ম্যাট রেনশর ১৭০ রানের ইনিংস।

রেনশ এখন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের পরিচিত মুখ। ফলে ভেন্যুটির অতীত এবং বর্তমানের মধ্যে একটি আকর্ষণীয় সংযোগ তৈরি হয়েছে। যে মাঠে তিনি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলেছেন, সেখানেই এবার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নারী ক্রিকেটেও আন্তর্জাতিক আয়োজন

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাস শুধু পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারী ক্রিকেটেও মাঠটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের নারী দলের মধ্যে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এখানে। ফলে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের জন্যও ভেন্যুটি প্রয়োজনীয় সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছে।

নারী ক্রিকেটের এসব আয়োজন মাঠের ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।

২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে

পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাকাইয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হয় ২০২৫ সালে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের দুটি ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৪ রানে পরাজিত করে। ম্যাচে লুঙ্গি এনগিডি পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।

পরের ম্যাচে অবশ্য অস্ট্রেলিয়া দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। তারা ২৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল মার্শ, ট্রাভিস হেড ও ক্যামেরন গ্রিন সেঞ্চুরি করেন। অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ করে ২ উইকেটে ৪৩১ রান।

এই ম্যাচগুলো ম্যাকাইয়ের দর্শকদের সামনে আন্তর্জাতিক পুরুষ ক্রিকেটের আরেকটি উচ্চমাত্রিক প্রদর্শনী হাজির করে।

শুধু ক্রিকেট নয়

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা শুধু ক্রিকেট মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। এটি একটি বহুমুখী ক্রীড়া ভেন্যু। এখানে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন হয়েছে।

তবে ক্রিকেটই ভেন্যুটির পরিচয়ের প্রধান স্তম্ভ। অস্ট্রেলিয়া এ, নিউজিল্যান্ড এ ও ভারত এ দলের মতো উচ্চপর্যায়ের দলও এখানে চার দিনের ম্যাচ খেলেছে।

ফলে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য মাঠটি নতুন হলেও দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটের পরিবেশ একেবারে অপরিচিত নয়।

নতুন ইতিহাসের সামনে ম্যাকাই

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্ট তাই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার জন্য কেবল আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক অভিষেক।

১৯৬৮ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে ১৯৯২ সালের দুই বলের বিশ্বকাপ ম্যাচ, ২০১৫ সালের শেফিল্ড শিল্ড থেকে ২০২৫ সালের অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে—ম্যাকাইয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে নানা অধ্যায় জমা হয়েছে।

এবার সেই তালিকায় যোগ হবে টেস্ট ক্রিকেট।

বাংলাদেশের জন্যও ম্যাচটির গুরুত্ব কম নয়। প্রথম টেস্টের ফল যদি সিরিজের চাপ তৈরি করে থাকে, তবে দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আর বাংলাদেশ চাইবে ঐতিহাসিক সাফল্যকে সিরিজ জয়ে রূপ দিতে।

সব মিলিয়ে ম্যাকাইয়ের মাঠে এবার ক্রিকেটের সবচেয়ে দীর্ঘ সংস্করণের অভিষেক হতে যাচ্ছে। অতীতের বিচিত্র স্মৃতি, বর্তমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা এক জায়গায় এসে মিলেছে।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নতুন। কিন্তু ক্রিকেটের জন্য মোটেও নয়।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

sticky add
Popup
টেস্ট কখনো হয়নি, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যুতে আর কী খেলা হয়েছে | তারাজ২৪