সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কাটা উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র (Tax Deduction Certificate) এখন সহজেই সংগ্রহ করা যায়। আয়কর রিটার্ন দাখিল, আর্থিক নথিপত্র সংরক্ষণ এবং কর পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে এই সনদ গুরুত্বপূর্ণ। কোথা থেকে এবং কীভাবে এটি পাওয়া যাবে, তা জেনে নিন বিস্তারিত।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত মুনাফার ওপর সরকার নির্ধারিত হারে উৎসে কর (Tax Deducted at Source) কেটে রাখে। এই কাটা করের তথ্য প্রমাণ হিসেবে যে নথি প্রদান করা হয়, সেটিই উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র বা Tax Deduction Certificate নামে পরিচিত। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া, আর্থিক লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ এবং কর পরিশোধের তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এই সনদের গুরুত্ব অনেক।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনা হয়েছে, সাধারণত সেখান থেকেই উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা যায়। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, সঞ্চয়পত্রের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব নম্বর উপস্থাপন করলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই সনদ প্রদান করা হয়।
বর্তমানে অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল সেবার আওতায় গ্রাহকদের জন্য অনলাইন বা ই-মেইলের মাধ্যমেও কর সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে। ফলে গ্রাহকরা শাখায় না গিয়েও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে সেবার ধরন ভিন্ন হতে পারে। তাই আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই নথি কর পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো তথ্য যাচাই বা অডিটের প্রয়োজন হলে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া যাদের একাধিক সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তাদের প্রতিটি বিনিয়োগের জন্য আলাদাভাবে কর কর্তনের হিসাব সংরক্ষণ করা উচিত। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সহজ হয় এবং রিটার্ন প্রস্তুতের সময় জটিলতা কমে।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের নিয়মিতভাবে নিজেদের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, কর কর্তন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা উচিত। কোনো তথ্যের অসঙ্গতি দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ডাকঘর বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা সংশোধন করে নেওয়া প্রয়োজন।
ডিজিটাল সেবার প্রসারের ফলে ভবিষ্যতে কর-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের পুরো প্রক্রিয়াও আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।