শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরডেঙ্গু

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯০৭

ডেঙ্গু: ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯০৭। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০৭ জন। মোট মৃত্যু ৮৮।

TTaaraaz24২৫ Aug ২০২৬, ১১:৩৯ AM0 পাঠক0 মন্তব্য
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯০৭
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে এডিস মশাবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে। একই সঙ্গে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩০ হাজার ৮৩০ জনে

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া তিনজনই নারী। তাদের মধ্যে দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং একজন ঢাকা বিভাগে বসবাস করতেন।

Inside Artcle

নতুন মৃত্যুর তথ্যটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে রোগীর চাপ এখনও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর দৃশ্যমান চাপ তৈরি করছে।

 

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০৭ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজার ৮৩০ জনে পৌঁছেছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২ হাজার ৯০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অর্থাৎ নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনেকের জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং বমিভাব দেখা দিতে পারে। রোগের জটিল পর্যায়ে রক্তক্ষরণ, প্লাজমা লিকেজ, শ্বাসকষ্ট কিংবা শক তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই সাধারণ জ্বর হিসেবে বিষয়টিকে উপেক্ষা না করে উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে এই মশার প্রজনন ঘটে। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ, ড্রাম কিংবা অন্যান্য ছোট জলাধার এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।

বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানির পরিমাণ বাড়লে মশার প্রজননও বাড়তে পারে। নগরায়ণের অপরিকল্পিত বিস্তার, নির্মাণকাজ, পানি নিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা এবং নাগরিক অসচেতনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন উৎসস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, হাসপাতালভিত্তিক প্রস্তুতি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

 

চলতি বছরের পরিস্থিতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৩০ হাজার ৮৩০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের

সংখ্যাগুলো দেখাচ্ছে, ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল, চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যক্তিগত পর্যায়েও সতর্কতা জরুরি। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, দিনে ও রাতে মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং জ্বর হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

সতর্ক থাকার পরামর্শ

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জ্বরকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। একটি ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিও এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা না গেলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফলে নাগরিক সচেতনতা, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর মশকনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে একই সূত্রে নিয়ে আসাই হতে পারে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

sticky add
Popup
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯০৭ | তারাজ২৪