শীর্ষ খবর

মন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগ, নেপথ্যে নানা আলোচনা

ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় পরিচালনা, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ও রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অন্যতম।

TTaaraaz24১৪ Jun ২০২৬, ১২:৩৫ PM1 পাঠক0 মন্তব্য
মন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগ, নেপথ্যে নানা আলোচনা
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমার বর্তমান পদ (মন্ত্রী) থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল তাঁর অনুসারী-সমর্থকেরা রাঙামাটি শহরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের দাবি, চাপ প্রয়োগের কারণে মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে অসুস্থ নন।’

Inside Artcle

মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কর্তৃত্ব, রাঙামাটি জেলা বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ঘিরে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করে থাকতে পারেন—গতকাল দিনভর এমন আলোচনা বেশি ছিল। তবে সরকার-সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করে পদত্যাগের কারণ জানা যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অস্বস্তিতে ছিলেন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এই মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া। এই মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ এই প্রথম এবং বিষয়টি নিয়ে পাহাড়িদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। তাঁরা মনে করেন, এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরই প্রাপ্য। তবে এসব আলোচনার বিষয়ে গতকাল দীপেন দেওয়ানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে দূরত্ব ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীপেন চাচার সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব নেই। আমাদের দুজনের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমার আব্বা (সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন) যখন জুডিশিয়ারিতে ছিলেন, তখন তিনি সহকর্মী ছিলেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনো দূরত্ব ছিল না। পদত্যাগের বিষয়টি জানতে পেরে আমি উনাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু উনাকে পাওয়া যায়নি। তবে উনি অসুস্থ ছিলেন শুনেছি। কেন পদত্যাগ করেছেন, বুঝতে পারছি না।’

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের আরেকটি কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে—তিন 

পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদের পুনর্গঠনে মতভিন্নতা। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে দ্রুততার সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সময়ক্ষেপণ করছিলেন।

Artcle -2

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Sticky
Popup