শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরজাতীয় সংবাদ

হাওড় অঞ্চলের ৪৩০ কোটি টাকার শিক্ষা প্রকল্পে নির্মাণ ত্রুটি ও অডিট আপত্তি: আইএমইডি

কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণ ত্রুটি, অসম্পূর্ণ অবকাঠামো ব্যবহার এবং ৩৪.২৩ কোটি টাকার অমীমাংসিত অডিট আপত্তির তথ্য উঠে এসেছে আইএমইডির সমীক্ষায়।

TTaaraaz24০৬ Aug ২০২৬, ১০:৪৬ AM1 পাঠক0 মন্তব্য
হাওড় অঞ্চলের ৪৩০ কোটি টাকার শিক্ষা প্রকল্পে নির্মাণ ত্রুটি ও অডিট আপত্তি: আইএমইডি
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

হাওড় অঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণ ত্রুটি ও বাস্তবায়ন দুর্বলতা, আইএমইডির সমীক্ষায় উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | Taaraaz24

Inside Artcle

কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন একটি বড় সরকারি প্রকল্পে নির্মাণমান, বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) পরিচালিত নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষায় প্রকল্পটির বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকৌশলগত ত্রুটি, অবকাঠামোর অসম্পূর্ণ ব্যবহার এবং অমীমাংসিত অডিট আপত্তির বিষয় উঠে এসেছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার নির্বাচিত ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক বহুতল ভবন, ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার এবং আইসিটি ল্যাব নির্মাণের জন্য প্রায় ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৭৩.৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৯.৮৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্মাণ শেষ হলেও ব্যবহার শুরু হয়নি

সমীক্ষায় দেখা গেছে, একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বিজ্ঞানাগারের সরঞ্জাম এবং আইসিটি যন্ত্রপাতি সরবরাহ না হওয়ায় অনেক ভবন এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে নতুন অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত শিক্ষা সুবিধা পাচ্ছে না।

বিভিন্ন ভবনে প্রকৌশলগত ত্রুটি

আইএমইডির পর্যবেক্ষণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনে দেয়ালে ফাটল, প্লাস্টারের অসম ফিনিশিং, লিন্টেলের ত্রুটি, গাঁথুনিতে ফাঁকা অংশ, ছাদে পানি জমার ঝুঁকি এবং নিম্নমানের ফিনিশিংয়ের মতো সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাওড় অঞ্চলের আর্দ্র পরিবেশে এ ধরনের ছোট ত্রুটিও ভবিষ্যতে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কিছু ভবনের মূল কাঠামো বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইসিটি ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার কার্যত অচল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাবের জন্য কক্ষ নির্মিত হলেও সেখানে কম্পিউটার বা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। একইভাবে বিজ্ঞানাগারের অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারছে না।

এ অবস্থায় আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিটে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পটিতে ১৪টি অডিট আপত্তির মাধ্যমে প্রায় ৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। এসব আপত্তির কোনোটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

অডিট পর্যবেক্ষণে অতিরিক্ত নির্মাণসামগ্রী দেখিয়ে বিল পরিশোধ, চুক্তির আগেই অর্থ ছাড়, নির্ধারিত মানের বাইরে উপকরণ ব্যবহার, কারিগরি পরীক্ষার ঘাটতি, বিলম্বজনিত জরিমানা আদায় না করা এবং অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো অডিট পর্যবেক্ষণ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সাপেক্ষ।

টেকসই ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির ইঙ্গিত

আইএমইডি ভবন হস্তান্তরের পর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনার অভাবের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ সংস্কার বা বড় ধরনের মেরামতের জন্য আলাদা তহবিল কিংবা কার্যকর এক্সিট প্ল্যানের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওড় অঞ্চলের বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং ঢেউয়ের প্রভাব বিবেচনায় অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইএমইডির সুপারিশ

সমীক্ষা প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সব অমীমাংসিত অডিট আপত্তির দ্রুত নিষ্পত্তি।
  • নির্মাণকাজের সঙ্গে আসবাবপত্র ও আইসিটি সরঞ্জাম সরবরাহের সমন্বিত বাস্তবায়ন।
  • ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী তহবিল গঠন।
  • হাওড় অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় ভবিষ্যৎ প্রকল্পের নকশা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা জোরদার করা।
  • প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজন হলে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন।

আইএমইডির মতে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও নির্মাণমান, বাস্তবায়ন সমন্বয়, রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা এবং অডিট সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে সমাধান করা না হলে প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি অর্জন করা কঠিন হতে পারে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Taaraaz Construction – Quality, Trust & Excellence in Every Project!
sticky add
Popup