শীর্ষ খবর

৬৯০টি এসি বাস নামানো যায়নি, এখন ইলেকট্রিক বাসের পরিকল্পনা

ঢাকার কল্যাণপুর থেকে প্রতিদিন পুরানা পল্টনে অফিসে যাতায়াত করেন আরিফুল হক। একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্ণধার তিনি। লতিফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বাসগুলোতে উঠা যায় না। উবারে গেলে ভাড়া গুনতে হয় ৪০০ টাকার মতো। এসি বাস থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করা যেত।

TTaaraaz24০৪ Jun ২০২৬, ০৪:৩৮ AM1 পাঠক0 মন্তব্য
৬৯০টি এসি বাস নামানো যায়নি, এখন ইলেকট্রিক বাসের পরিকল্পনা
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

কিন্তু যে রুটে লতিফুল হক চলেন, সেই রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোনো বাস নেই। তাঁর মতো অনেকেই এসি বাস পেলে তাতেই যাতায়াত করতেন। কিন্তু প্রায় দেড় কোটি মানুষের এই শহরে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস এখন হাতে গোনা। নন-এসি বাসগুলোরও লক্কড়ঝক্কড় অবস্থা, রং চটা, দরজা-জানালা-লাইট ঠিক নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৬৯০টি নতুন এসি বাস নামানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলো ছয় মাসেও ডিজেলচালিত এসি বাসগুলো নামাতে পারেনি। এখন সরকার জোর দিচ্ছে ইলেকট্রিক বাসে।

Inside Artcle

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন সরকার বাস অনুমোদন দেওয়ার পদ্ধতি, বাসের ধরন ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। তা থেকেই ইলেকট্রিক বাস নামানোর এই পরিকল্পনা।

সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে, নতুন বাসে স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলা-বন্ধের (অটো-ডোর) এবং ই-টিকেটিং ব্যবস্থা থাকবে। সুশৃঙ্খল বাস ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে চালকের সঙ্গে চুক্তিতে নয়, কাউন্টারভিত্তিক সেবা চালু হবে। বাস থাকবে চকচকে। বাসের গায়ে রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে। একই কোম্পানির সব বাসের রং অভিন্ন হবে। বাসগুলো চলবে বড় কোম্পানির অধীন ফ্রাঞ্চাইজির ভিত্তিতে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, সরকার জ্বালানি সাশ্রয় ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা—এ দুটি বিষয়ে জোর দিয়েছে। এ জন্য ইলেকট্রিক বাস সরকারিভাবে আমদানির পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সব দিক থেকেই ঢাকায় মানসম্মত বাস নামানোর জন্য চেষ্টা চলছে। শিগগিরই ভালো কিছু দেখা যাবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যে ৬৯০টি এসি বাস নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দ্রুত নামাতে পারলে ভালো। তবে বিআরটিসি ও ব্যক্তিমালিকানায় বেশি বেশি ইলেকট্রিক এসি ও নন–এসি বাস নামাতে চেষ্টা হচ্ছে এখন। এ জন্য শুল্ক ছাড়সহ নানা নীতি সুবিধা দেওয়া হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিজে এবং অন্য পরিবহনের মালিকদের নিয়ে ১০০ ইলেকট্রিক বাস দিয়ে একটি বাস রুট চালুর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ঢাকায় বাস চলাচলের অনুমোদন (রুট পারমিট), নতুন রুট নির্ধারণ এবং পরিবহন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম তদারক ও নিয়ন্ত্রণ হয় ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির (মেট্রো আরটিসি) মাধ্যমে। পদাধিকারবলে এ কমিটির প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার। বিআরটিএর ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৮ সাল থেকে দীর্ঘদিন মেট্রো আরটিসির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুনরায় কার্যকর হয় আরটিসি। গত বছরের ৬ নভেম্বরের সভায় ২২টি রুটে ৩ হাজারের বেশি এসি ও নন-এসি বাসের জন্য আবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। তবে কমিটি নন-এসি বাসের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু ১০টি রুটে ৬৯০টি এসি বাসের অনুমোদন দেওয়া হয়। ছয় মাসের মধ্যে এসব বাস নামানোর সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

Artcle -2

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Sticky
Popup
৬৯০টি এসি বাস নামানো যায়নি, এখন ইলেকট্রিক বাসের পরিকল্পনা | তারাজ২৪